পাকিস্তানে তুর্কি সামরিক বিমানের আনাগোনা, উদ্বিগ্ন ভারত
- বাংলাকন্ঠ ডেস্ক
- প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৭ PM , আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৭ PM
হঠাৎ করেই পাকিস্তানে তুরস্কের সামরিক বিমানের ব্যাপক আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। গত ১৯ থেকে ২১ আগস্ট মাত্র ৬০ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের বেশ কয়েকটি সামরিক পরিবহন বিমান ওঠানামা করেছে। বিষয়টি নিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের জন্য পাকিস্তানের সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও দেখছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’।
উন্মুক্ত সূত্রের উড্ডয়ন পর্যবেক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২১ আগস্টের মধ্যে পাকিস্তানের নূর খান, মাসরুর ও মুরিদ বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমান অবতরণ করেছে। এর মধ্যে সি-১৩০ হারকিউলিস ও এ-৪০০এম মডেলের বিমান ছিল। একটি বিমান ‘টিইউএএফ৫২৬’ সংকেত ব্যবহার করেছিল বলেও জানা গেছে।
তবে এসব বিমানে কী ধরনের সরঞ্জাম বা সামগ্রী পরিবহন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তুরস্ক বা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে অবশ্য আলোচনা চলছে, এসব বিমানে পাকিস্তানের জন্য সামরিক সরঞ্জাম আনা হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে চালকবিহীন বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম থাকার সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে আরও আলোচনা রয়েছে, তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানগুলোর মাধ্যমে দেশটির তৈরি নতুন প্রজন্মের আত্মঘাতী চালকবিহীন বিমান ‘কে-২’ এবং ‘আসিসগার্ড’-এর বিভিন্ন ধরনের চালকবিহীন বিমান ব্যবস্থা পাকিস্তানে পৌঁছেছে কি না।
গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানে তুরস্কের সামরিক বিমানের এই তৎপরতা বিশেষভাবে নজরে এসেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানে তুরস্কের সামরিক বিমানের ঘন ঘন যাতায়াতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে ভারতের প্রতিরক্ষা মহল।
এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের জন্য পাকিস্তান কি সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে?
ভারতের দাবি, গত বছরের মে মাসে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর আগেও চীন ও তুরস্ক পাকিস্তানকে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল। এর মধ্যে চীনের পিএল-১৫ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল বলে দাবি নয়াদিল্লির।
এ ছাড়া তুরস্কের তৈরি ‘বায়রাকতার’ চালকবিহীন বিমান এবং ‘আসিসগার্ড সংগার’ আত্মঘাতী চালকবিহীন বিমানও সে সময় পাকিস্তানকে সরবরাহ করা হয়েছিল বলে দাবি করে ভারত।
ভারতের আরও অভিযোগ, ওই সংঘাত চলাকালে চীন ও তুরস্ক পাকিস্তানকে যুদ্ধক্ষেত্রের তাৎক্ষণিক তথ্য এবং কৌশলগত সহায়তা দিয়েছিল।