ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী
- বাংলাকণ্ঠ ডেস্ক
- প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ AM , আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ AM
দীর্ঘ ২৩ বছর পর ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হচ্ছে। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশটির বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘটনাকে ইরানের নেতৃত্বাধীন জোট ও তাদের মিত্ররা ‘বিজয়’ হিসেবে দেখলেও, এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ২০২৪ সালেই চূড়ান্ত হয়েছিল। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তই বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বাস্তবায়ন করছে।
গত ১২ আগস্ট ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে ১ অক্টোবরকে ইরাকের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কারণ ওই দিন থেকে দেশটিতে আর কোনো বিদেশি সেনা থাকবে না বলে জানানো হয়েছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাকে আইএসবিরোধী বৈশ্বিক জোটের অভিযান সমাপ্তির পথে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই দেশটি থেকে বিদেশি সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির বৈঠকের ভিত্তিতে সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন সফরের সময় ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেনারেল কুপারের বৈঠক হয়।
সেনা প্রত্যাহারের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের প্রতি সম্মান রেখে অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দেবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
২০০৩ সালে শুরু মার্কিন অভিযান
ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সূচনা ২০০৩ সালে। ওই বছরের ১৯ মার্চ তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী। অভিযানের প্রায় নয় মাস পর সাদ্দাম হোসেন গ্রেপ্তার হন।
এরপর প্রায় তিন বছর বিচার চলার পর ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এখন নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী সেই সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটছে।