জামায়াতের আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার
- বাংলাকন্ঠ রিপোর্ট
- প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৫ PM , আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪০ PM
জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়া অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান (অতিরিক্ত কমিশনার) শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম সজীব আজ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় বিমানবন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিদেশ সফর শেষে দেশে ফেরেন আখতারুজ্জামান। জামায়াতের ৩৪ সংসদ সদস্যসহ ৭০ জনের এই প্রতিনিধিদল গত ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর দুইভাগে বিদেশ যায়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গতকাল সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের লাগেজ বেল্ট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-৩৩৮ যোগে আসা যাত্রীরা অতিরিক্ত চাপ এবং ট্রলির ঘাটতির কারণে লাগেজ পেতে বিলম্বের শিকার হলে সেখানে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এতে আরও বলা হয়, যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে পড়লে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন।
রাগীব সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে আখতারুজ্জামান একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন, তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং গালিগালাজ করেন।
এতে আরও বলা হয়, আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালককে পেটানো এবং ‘ঘাড় ধরে’ বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
এজাহারে বলা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা লোকজন বিমানবন্দরের সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার (কেইপিআই) ভেতরে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করলে আখতারুজ্জামান তাকে গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, আখতারুজ্জামান অন্যান্য যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন করেন এবং বিমানের একজন প্রতিনিধির সঙ্গেও আক্রমণাত্মক আচরণ করেন।
বাদী উল্লেখ করেন, এই ঘটনা একটি সংবেদনশীল এবং সংরক্ষিত স্থাপনায় কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
পুলিশ দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করেছে, যেখানে সরকারি কাজে বাধা, আঘাত, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, ইচ্ছাকৃত অপমান এবং অপরাধমূলক ভয়ভীতি দেখানোর মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রবেশ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত রেকর্ড, ফ্লাইটের রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত সংগ্রহ করা হতে পারে।
জানা যায়, গতকাল জামায়াতের ৩৪ এমপির ব্যাগ আটকিয়ে হয়রানি করছিলেন নিরাপত্তা কর্মীরা। তখন জামায়াত নেতা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান তাকে বলেন, জামায়াতে ইসলামী আজকেই ১০০০ ট্রলি কিনে দিবে, লাগবে? বিমানবন্দরের পরিচালক যখন ট্রলির সংকটের অজুহাত দেন, তখন তিনি এসব কথা বলেন। অর্থাৎ, ট্রলির সংকটের কারণে যদি বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হতে হয়, তবে কয় হাজার ট্রলি লাগবে? জনগণের কল্যাণে জামায়াতে ইসলামীই সব কিনে দিবে।
তিনি আরও বলেন, ‘কাজ পারো না মিয়া, তদবির কইরা এই জায়গায় বসেছো? সিস্টেমের অজুহাত দিয়ে আর কত লোককে হয়রানিতে রাখবে? কাজ না পারলে বের হয়ে যাও। নতুবা ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবো?’
এ বিষয়ে জামায়তের পক্ষ থেকে এখনও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শুধু জামায়াত করার কারণে তাদের এমন হেনস্তা করা হচ্ছে বলে সামাজিকমাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি করলে সাত খুন মাফ বলেও মন্তব্য করছেন অনেকে। পুলিশ সদস্যকে মারধরের পরও বিএনপির নেতাকর্মীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, আর আখতারুজ্জামান জনগণের পক্ষে কথা বলে, হয়রানির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলেও দাবি করছে অনেকে।
উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান গত বছরের ডিসেম্বরে বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগ দেন। এর আগে বিএনপি থেকে অন্তত ৫ বার বহিষ্কার করা হয় তাকে।