ঘরে বসেই পাবেন পাসপোর্ট, চালু হচ্ছে নতুন নিয়ম
- বাংলাকন্ঠ রিপোর্ট
- প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৪ PM , আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৪ PM
নাগরিক সেবা আরও সহজ, আধুনিক ও সময় সাশ্রয়ী করতে আবেদনকারীর বাসায় সরাসরি পাসপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার (হোম ডেলিভারি) উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের ইমিগ্রেশন ও ভিসা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ও আধুনিক করতে প্রচলিত স্টিকার ভিসার পরিবর্তে অনলাইন ভিসা সিস্টেম চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, পাসপোর্ট হোম ডেলিভারি চালুর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে মোট ৮ লাখ ৭০ হাজার ইউরো, অর্থাৎ প্রায় ১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ইউরো (প্রায় ৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা) এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অবশিষ্ট ৫ লাখ ৮০ হাজার ইউরো (প্রায় ৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা) ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, হোম ডেলিভারি সেবা চালুর বিষয়টি নীতিগতভাবে ইতিবাচক বিবেচনায় রয়েছে। তবে বাস্তবায়নের আগে প্রশাসনিক অনুমোদন, বাজেট বরাদ্দ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং নিরাপদ বিতরণব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, পাসপোর্ট একটি স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় নথি। তাই হোম ডেলিভারির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই, নিরাপদ হস্তান্তর এবং প্রতিটি ধাপ ডিজিটালভাবে ট্র্যাক করার ব্যবস্থা রাখা হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, পাসপোর্ট হোম ডেলিভারি চালু হলে নাগরিকদের সময় ও ভোগান্তি কমবে এবং সেবার মান বাড়বে। তবে ভুল ব্যক্তির হাতে পাসপোর্ট পৌঁছানোর সুযোগ রোধে শক্তিশালী পরিচয় যাচাই, নিরাপদ চেইন অব কাস্টডি এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং নিশ্চিত করা জরুরি।
অন্যদিকে প্রশাসনিক আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার জাহিদ রহমান বলেন, উদ্যোগটি জনবান্ধব হলেও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, আইনি জবাবদিহি এবং গ্রহণকারী ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
অনলাইন ভিসা ও ই-ট্রাভেল পারমিট
ইমিগ্রেশন ও ভিসা ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে প্রচলিত স্টিকার ভিসার পরিবর্তে অনলাইন ভিসা সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে প্রশাসনিক অনুমোদন গ্রহণ এবং পরীক্ষামূলক (পাইলট) কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে দক্ষ জনবল নিয়োগের জন্য ১২১টি নতুন পদ সৃষ্টির অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসে পাসপোর্টবিহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফেরার সুবিধার্থে সব দূতাবাস থেকে ই-ট্রাভেল পারমিট চালুরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ সেবা আরও দ্রুত করতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর বিভিন্ন কারিগরি ও প্রশাসনিক পদে নতুন জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের চাপ কমাতে গৌরীপুরে নতুন একটি পাসপোর্ট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে অনলাইন ভিসা ব্যবস্থাপনা চালুর জন্য ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ কোটি টাকা আন্তঃখাত সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট ৩ কোটি টাকা সেবা চার্জ ও রক্ষণাবেক্ষণ খাত থেকে ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, হোম ডেলিভারি, অনলাইন ভিসা, ই-ট্রাভেল পারমিট এবং বিদেশে দক্ষ জনবল নিয়োগ এই চারটি উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়িত হলে নাগরিক সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং দেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ সফল করতে শক্তিশালী আইনি কাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।