নোবেল পুরস্কার নিয়ে যত কথা
- বাংলাকন্ঠ ডেস্ক
- প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৫ PM , আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৮ PM
বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নোবেল। বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। কিন্তু কীভাবে শুরু হয়েছিল নোবেল পুরস্কার? কে চালু করেছিলেন এই পুরস্কার এবং কোন প্রক্রিয়ায় বেছে নেওয়া হয় বিজয়ীদের?
নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুইডিশ বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক ও শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের নাম। ১৮৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর প্যারিসে নিজের শেষ উইলে নোবেল তার বিপুল সম্পদের বড় একটি অংশ পুরস্কার হিসেবে দেওয়ার জন্য রেখে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার ইচ্ছা ছিল, মানবজাতির সবচেয়ে বেশি উপকারে আসে—এমন কাজের স্বীকৃতি দেওয়া।
১৮৩৩ সালে স্টকহোমে জন্ম নেওয়া আলফ্রেড নোবেল ছিলেন রসায়নবিদ, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ী। ডিনামাইট আবিষ্কার এবং ৩৫৫টি পেটেন্টের মালিকানার মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের অধিকারী হন। ১৮৯৬ সালের ১০ ডিসেম্বর ইতালির সানরেমোতে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর উইল বাস্তবায়ন নিয়ে শুরু হয় দীর্ঘ প্রক্রিয়া।
পাঁচ বিভাগে শুরু
নোবেলের উইল অনুযায়ী শুরুতে পাঁচটি ক্ষেত্রে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়—পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, শারীরতত্ত্ব বা চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য এবং শান্তি।
তবে নোবেলের মৃত্যুর পরপরই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়নি। তার উইল বাস্তবায়ন ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য গঠন করা হয় নোবেল ফাউন্ডেশন। সব প্রস্তুতি শেষে ১৯০১ সালে প্রথমবারের মতো নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
পরে ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে অর্থনীতিতে একটি নতুন পুরস্কার প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৬৯ সাল থেকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এটি নোবেলের মূল পাঁচটি পুরস্কারের অংশ নয়; তবে প্রচলিতভাবে এটিও নোবেল পুরস্কার হিসেবেই পরিচিত।
কীভাবে হয় মনোনয়ন
নোবেল পুরস্কারের জন্য নিজের নাম নিজে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বিজ্ঞানী, একাডেমির সদস্য, সাবেক নোবেলজয়ী এবং সংসদ সদস্যসহ নির্দিষ্ট যোগ্যতার ব্যক্তিদের কাছে মনোনয়নের আমন্ত্রণ পাঠানো হয়।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩১ জানুয়ারি। এরপর সংশ্লিষ্ট নোবেল কমিটি মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন শুরু করে। কমিটিতে সাধারণত ৫ থেকে ১০ জন সদস্য থাকেন। তারা বিশেষজ্ঞদের মতামত নেন, প্রার্থীদের কাজ পর্যালোচনা করেন এবং ধাপে ধাপে সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকা ছোট করেন।
এই প্রক্রিয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কঠোর গোপনীয়তা। কাউকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কি না, সে তথ্য ৫০ বছর পর্যন্ত প্রকাশ করা হয় না।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন যারা
নোবেল পুরস্কারের প্রতিটি বিভাগের বিজয়ী নির্বাচনের দায়িত্ব আলাদা প্রতিষ্ঠানের ওপর ন্যস্ত।
পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও অর্থনীতিতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নির্বাচন করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস। শারীরতত্ত্ব বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিজয়ী নির্বাচন করে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি। সাহিত্যে বিজয়ী বেছে নেয় সুইডিশ একাডেমি। আর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের বিজয়ী নির্বাচন করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।
মাসের পর মাস পর্যালোচনা ও আলোচনার পর অক্টোবর মাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করে। এরপর একে একে ঘোষণা করা হয় বিজয়ীদের নাম।
পুরস্কার দেওয়া হয় ১০ ডিসেম্বর
প্রতিবছর ১০ ডিসেম্বর নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। দিনটি আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও অর্থনীতির পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হয় সুইডেনের স্টকহোমে। আর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় নরওয়ের অসলোতে।
প্রত্যেক বিজয়ী পান একটি পদক, ব্যক্তিগত সনদ ও অর্থ পুরস্কার। ২০২৬ সালে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তনের ১২৫ বছর পূর্তি হচ্ছে। চলতি বছর প্রতিটি বিভাগে পুরস্কারের অর্থমূল্য বাড়িয়ে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা করা হয়েছে, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান।