অভিবাসীদের জন্য কানাডার নতুন সিদ্ধান্ত
- বাংলাকণ্ঠ ডেস্ক
- প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৩ PM , আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৩ PM
কানাডায় বাবা-মা ও দাদা-দাদিকে স্থায়ীভাবে নিয়ে যাওয়ার প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস প্রোগ্রামে (পিজিপি) নতুন আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। ফাইল প্রক্রিয়াকরণের সময় কমানো, অতিরিক্ত আবেদন নিয়ন্ত্রণ এবং অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
আইআরসিসি জানিয়েছে, আপাতত নতুন কোনো স্পন্সরশিপ আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তবে ইতোমধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াকরণ স্বাভাবিকভাবেই চলবে। ২০২৬-২০২৮ সালের অভিবাসন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এই কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মানুষকে স্থায়ী বসবাসের (পিআর) অনুমতি দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নবাগত ও কানাডার স্থায়ী বাসিন্দা উভয়ের জন্যই একটি কার্যকর, সুপরিকল্পিত ও টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন আবেদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখলে ফাইল নিষ্পত্তির সময় কমবে এবং আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তাও হ্রাস পাবে।
পারিবারিক পুনর্মিলন নীতিতে পরিবর্তন নেই
আইআরসিসি বলেছে, পারিবারিক পুনর্মিলন এখনও কানাডার অভিবাসন নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাবা-মা, দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানিরা সুপার ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে কানাডায় যেতে পারবেন।
এই ভিসায় একবার প্রবেশের পর টানা পাঁচ বছর পর্যন্ত কানাডায় থাকা যায় এবং ১০ বছর মেয়াদে একাধিকবার প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি আয় ও স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত কিছু শর্ত শিথিল করায় সুপার ভিসা পাওয়া আগের তুলনায় আরও সহজ হয়েছে।
অতিরিক্ত চাহিদা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ
আইআরসিসির তথ্য অনুযায়ী, পিজিপি কর্মসূচিতে আবেদনকারীর সংখ্যা নির্ধারিত কোটার তুলনায় অনেক বেশি। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন স্পন্সর করার আগ্রহপত্র গ্রহণ কিংবা নতুন আবেদনকারীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে না।
সংস্থাটি বলছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে এবং পুরো অভিবাসন ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ও টেকসই রাখা যাবে।
বিয়ে সংক্রান্ত জালিয়াতি নিয়ে সতর্কবার্তা
এদিকে সম্প্রতি কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ দেশটির নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের বিয়ে-সংক্রান্ত অভিবাসন জালিয়াতি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় আইআরসিসি জানিয়েছে, কাউকে বিয়ে করে কানাডায় স্পন্সর করার আগে সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যদি পরিচয় অল্পদিনের হয়, দ্রুত বিয়ের চাপ থাকে, অতীতে একাধিক বিয়ে বা লিভ-ইন সম্পর্কের ইতিহাস থাকে কিংবা ব্যক্তি নিজের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত তথ্য গোপন করেন তাহলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
আইআরসিসির ভাষ্য, বিয়ে-সংক্রান্ত জালিয়াতি একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা, যা প্রতারিত ব্যক্তির জন্য দীর্ঘমেয়াদি আইনি ও আর্থিক জটিলতার কারণ হতে পারে।