ইসরায়েল নাকি যুক্তরাষ্ট্র; ট্রাম্পের সামনে চ্যালেঞ্চ
- বাংলাকণ্ঠ ডেস্ক
- প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫২ PM , আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫২ PM
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘায়িত সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্রের মজুতে বাড়ছে চাপ। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এক কঠিন কৌশলগত সমীকরণের মুখে পড়েছে। একদিকে মিত্র ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা বজায় রাখা দুটি লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা।
শনিবার (১ আগস্ট) দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও সিএনএনের পৃথক প্রতিবেদনে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ পেন্টাগনকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষা করা এবং একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ও সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত নৌ-সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নাও থাকতে পারে।
তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় এ অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। তার মতে, অতিরিক্ত একটি ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন না করা হলে একপর্যায়ে কমান্ডারদের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে—মার্কিন সেনা ও ঘাঁটির সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, নাকি ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ২০০টির বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে, যা তাদের মোট মজুতের প্রায় অর্ধেক। একই সময়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকেও ১০০টির বেশি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
সিএনএনের বরাতে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের প্রায় ৪৫ শতাংশ, থাড ইন্টারসেপ্টরের ৫০ শতাংশ, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব আধুনিক প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় দ্রুত নতুন মজুত গড়ে তোলা সহজ নয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের একাধিক অঞ্চলে একযোগে বড় ধরনের সংকট দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগতভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হতে পারে। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর সামরিক বাহিনীর সক্ষমতারও বাস্তব সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।