মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রিমান্ডে

আখতারুজ্জামান
  © সংগৃহীত

একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে করা মামলায় এ আদেশ দেওয়া হয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর রিমান্ড শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল করে তাঁর জামিনের আবেদন জানায়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এর আগের রাতে তাঁর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি ও আঘাতের মাধ্যমে স্বাভাবিক শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করা হয়েছে। এতে বিদেশফেরত যাত্রীদের স্বাভাবিক আগমন ব্যাহত হয়। ঘটনার পেছনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কোনো মহলের ইন্ধন ছিল কি না, তা জানতে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

যে ঘটনায় মামলা

মামলার এজাহার সূত্রে পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজের (বিজি-৩৩৮) যাত্রীরা নামার পর ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট দেখা দেয়। লাগেজ পেতে দেরি হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়।

এ পরিস্থিতিতে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে আখতারুজ্জামান তাঁর দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তিনি নির্বাহী পরিচালককে ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’ এবং ‘ঘাড় ধরে বের করে দিবো’ বলে হুমকি দেন বলে মামলার বিবরণে বলা হয়েছে।

আখতারুজ্জামানের মুক্তি চেয়েছে জামায়াত

আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে তাঁর মুক্তি দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ১ অক্টোবর পবিত্র ওমরা পালন শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে অন্য যাত্রীদের মতো আখতারুজ্জামানও বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন। এর প্রতিবাদে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হতে পারেননি।

তিনি একসময় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ১৩ ডিসেম্বর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।


মন্তব্য