বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সুখবর

যুক্তরাষ্ট্র
  © সংগৃহীত

মার্কিন ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থানের প্রবণতা কমাতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পরীক্ষামূলক (পাইলট) প্রকল্পের ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ কর্মসূচিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি রয়টার্সের বরাতে জানিয়েছে, নতুন এই নীতির আওতায় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটানসহ মোট ৫০টি দেশের নাগরিকরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তবে বর্তমান তালিকায় ভারতের নাম নেই।

নতুন বিধান অনুযায়ী, ব্যবসা ও পর্যটন উদ্দেশ্যে (বি-১ ও বি-২) ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে ভিসা ইস্যুর শর্ত হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে বলতে পারবেন।

মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এক বছরের মূল্যায়নে দেখা গেছে, ভিসা বন্ড কর্মসূচি ভিসাধারীদের অবস্থানের মেয়াদ ও ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এ কারণে কর্মসূচিটি স্থায়ী করা হয়েছে। নতুন নিয়ম আগামী ৩ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চালু হওয়া ভিসা বন্ড পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং ডিপার্টমেন্ট অব দ্য ট্রেজারির সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচিটির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়। মূল্যায়নে দেখা যায়, বন্ড নেওয়া ভিসাধারীরা আইনি শর্ত মেনে চলার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি সচেতন ছিলেন।

পাইলট প্রকল্পের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তারা ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নির্ধারণ করতে পারতেন। তবে চূড়ান্ত নীতিমালায় ৫ হাজার ডলারের বিকল্পটি বাতিল করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে এই কর্মসূচির আওতায় থাকা ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার দেশ।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমাতেই এ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীদের মতে, এ সিদ্ধান্ত বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে আগ্রহীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে সংকুচিত করছে এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়। তবে সমালোচকদের ভাষ্য, উচ্চ ফি আরোপ এবং ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কঠোরভাবে যাচাইয়ের মতো পদক্ষেপ বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকেও আরও জটিল করে তুলছে।

ভিসা বন্ড কর্মসূচির আওতাভুক্ত ৫০টি দেশ

আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বাংলাদেশ, বেনিন, ভুটান, বতসোয়ানা, বুরুন্ডি, কেপ ভার্দে, কম্বোডিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, আইভরিকোস্ট, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ইথিওপিয়া, ফিজি, গ্যাবন, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, গ্রেনাডা, গিনি, গিনি-বিসাউ, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, লেসোথো, মালাবি, মৌরিতানিয়া, মরিশাস, মঙ্গোলিয়া, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি, সাও টোমে ও প্রিন্সিপে, সেনেগাল, সিশেলস, তাজিকিস্তান, তানজানিয়া, টোগো, টোঙ্গা, তিউনিসিয়া, তুর্কমেনিস্তান, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনিজুয়েলা, জাম্বিয়া এবং জিম্বাবুয়ে।

সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স


মন্তব্য