জর্ডানে মার্কিন স্থাপনায় হামলা ইরানের

জর্ডান
  © সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

সামা টিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দাবি, সতর্কবার্তা অমান্য করায় হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারও থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা হলেও সেগুলোর নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলার পরই এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।

ওয়াশিংটন ও রিয়াদের দাবি, পূর্ব ইরাকে ইরান-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এসব স্থান থেকে সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয় করা হচ্ছিল।

সৌদি আরব জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। এসব হামলার জন্য ইরাকভিত্তিক ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের দায়ী করেছে রিয়াদ।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ও সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এদিকে ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, হামলায় তাদের কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। তারা এ ঘটনাকে ইরাকের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।

অন্যদিকে সৌদি আরবের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। তেহরান বলেছে, আঞ্চলিক যেকোনো হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হলে তা ‘বড় ধরনের ভুল হিসাব’ হবে এবং এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।


মন্তব্য